eRJkabbo.com: আরিফ আজাদ

Last Update
Loading...
Menu

Saturday, April 4, 2020

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২ আরিফ আজাদ (স্ক্যান ভার্সন)


প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২ 

Title প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২
Author আরিফ আজাদ
Publisher সমকালীন প্রকাশন
Quality পেপারব্যাক
ISBN 9789849420309
Edition 2nd Edition, 2019
Number of Pages 240
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা




"প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২" বইয়ের পিছনের কভারের লেখা:
ঘুটঘুটে অন্ধকার! সেই অন্ধকার গ্রাস করে আছে সবকিছু। এমন সময় কোথা থেকে যেন ছুটে আসে এক উষ্ণ আলােক রশ্মি। সেই আলাের পরশে নিমিষেই মিলিয়ে যায় অন্ধকার রাত। প্রভাতী কিরণের মতােই চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এই আলােক রশ্মি। যাত্রা হয় এক নতুন দিনের, নতুন সময়ের। এমনই আবহে সত্য ও পবিত্র পথের সন্ধানে দুঃসাহসিক অভিযাত্রার গল্প নিয়ে এগিয়ে যায় সাজিদ-আর অবিশ্বাসের দেয়ালে গেঁথে যায় বিশ্বাসের। কথামালা। ভেঙে পড়ে অবিশ্বাসের দেয়াল। নির্মিত হয় সত্যের ইমারত। সত্য আর শুভ্রতার সেই গল্পে আপনিও একজন অংশীদার...।


বইয়ের সূচিপত্রঃ

* কুরআন কি নারীদের শস্যক্ষেত্র বলেছে?- ১৫
* A Reply to Christian Missionary- ২৫
* ইসলাম কি অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত করে?- ৪০
* কুরআনে বৈপরীত্যের সত্যাসত্য- ৫১
* বনু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড—ঘটনার পেছনের ঘটনা- ৬৩
* স্যাটানিক ভার্সেস ও শয়তানের ওপরে ঈমান আনার গল্প- ৮০
* রাসূলের একাধিক বিবাহের নেপথ্যে- ৯২
* জান্নাতেও মদ?- ১১৩
* গল্পে জল্পে ডারউইনিজম- ১২৫
* কুরআন কেন আরবী ভাষায়- ১৩৬
* সূর্য যাবে ডুবে- ১৫৩
* সমুদ্রবিজ্ঞান- ১৬৪
* লেট দেয়ার বি লাইট- ১৭৯
* কাবার ঐতিহাসিক সত্যতা- ১৯৮
* নিউটনের ঈশ্বর- ২১৫
* পরমাণুর চেয়েও ছোট- ২২৫
* লেখক-পরিচিতি- ২৩৫


বইয়ের কিছু কথাঃ

কুরআন কি নারীদের শস্যক্ষেত্র বলেছে?
অনেকদিন পর শাহবাগে হঠাৎ নীলু দা’র সাথে দেখা। প্রথমে খেয়াল করিনি। পেছন থেকে এসে আমার মাথায় টোকা দিয়ে বললেন, কী খবর কবি সাহেব?’
পেছন ফিরতেই দেখি হাতে একগাদা বই নিয়ে নীলু দা দাঁড়িয়ে আছেন। চোখে মোটা ফ্রেমের কালো চশমা লাগিয়েছেন বলে দেখতে একদম স্কুল মাস্টারের মতো লাগছে। খয়েরি রঙের টি-শার্ট গায়ে। আমি খুবই অপ্রস্তুত ছিলাম। বললাম, আরে দাদাভাই যে! কেমন আছ?
‘ভালো। তুই কেমন?’
‘ভালো।’
কুশলাদি বিনিময় করতে করতে আমরা একটি ফাঁকা স্থানে এসে দাঁড়ালাম। নীলু দা জিজ্ঞেস করল, ‘সাজিদ কোথায়?’
এই মুহূর্তে সাজিদ কোথায় তা আমিও জানি না। একটু আগেও সে আমার সাথে ছিল। আমি মোবাইলে টাকা রিচার্জ করে এসে দেখি সে উধাও। কখন থেকে ফোন করেই যাচ্ছি! যদিও জানি, সে আমার ফোন ওঠাবে না, তবুও ব্যর্থ চেষ্টা করে যাওয়া আরকি! কতক্ষণই বা এরকম কাঠফাঁটা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা যায়?
নীলু দা’র প্রশ্নের জবাবে বললাম, ‘আছে হয়তো এদিকে কোথাও।’…


Author Information
আরিফ আজাদ

আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা- লেখক আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে একথাই বলেছেন ডঃ শামসুল আরেফিন। গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লেখেন, অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণবিচুর্ণ করেন।” আরিফ আজাদ এর বই মানেই একুশে বইমেলায় বেস্ট সেলার, এতটাই জনপ্রিয় এ লেখক। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা লেখকদের একজন আরিফ আজাদ। ১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এ লেখক মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম জিলা স্কুলে। একটি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। লেখালেখির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায়। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদ বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে তার নাস্তিক বন্ধুর অবিশ্বাসকে বিজ্ঞানসম্মত নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খণ্ডন করে। আর এসব কথোপকথনের মধ্য দিয়েই বইটিতে অবিশ্বাসীদের অনেক যুক্তি খণ্ডন করেছেন লেখক। বইটি প্রকাশের পরপরই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এটি ইংরেজি ও অসমীয়া ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - ২’ প্রকাশিত হয়ে এবং এটিও বেস্টসেলারে পরিণত হয়। সাজিদ সিরিজ ছাড়াও আরিফ আজাদ এর বই সমগ্রতে আছে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ‘সত্যকথন’ (সহলেখক) এর মতো তুমুল জনপ্রিয় বই।

ডাউনলোড লিংকঃ



Thursday, April 2, 2020

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - আরিফ আজাদ

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - আরিফ আজাদ
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ

লেখক : আরিফ আজাদ
প্রকাশনী : গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
বিষয় : অন্ধকার থেকে আলোতে
বর্তমান যুগ হলো প্রেজেন্টাশানের যুগ। একটা জিনিসকে আপনি কিভাবে, কতোটা সহজে, কতোটা সাবলীলভাবে, কতোটা মাধুর্যতায় প্রেজেন্টেশান করছেন তার উপর কিন্তু অনেক কিছুই নির্ভর করে। ন্যাচারালি, মানুষের একটা স্বভাব হচ্ছে – এরা তত্ত্বকথা খুব কম হজম করতে পারে। এরা চায় সহজবোধ্যতা। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ এর লেখক আরিফ আজাদ ঠিক এই পদ্ধতিই বেছে নিয়েছেন। তিনি গতানুগতিক লেকচার বা তত্বকথার ধাঁচে না গিয়ে, বক্তব্যের বিষয়গুলোকে গল্পের ধাঁচে ফেলে সাজিয়েছেন। প্রতিটি গল্পের শুরুতেই আছে মজার, আগ্রহ উদ্দীপক একটি সূচনা। কোথাও বা গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদের সাথে তাঁর বন্ধু আরিফের খুনসুটি, কোথাও বা মজার কোন স্মৃতির রোমন্থন, কোথাও বা আছে সিরিয়াস কোন ব্যাপারে সিরিয়াস কোন হুশিয়ারি। গল্পে মজা আছে, আনন্দ আছে। মোটামুটি, সার্থক গল্পে যা যা উপাদান থাকা দরকার, যা যা থাকলে পাঠকের গল্প পাঠে বিরক্তি আসেনা, রুচি হারায় না- তার সবকিছুর এক সম্মিলিত সন্নিবেশ যেন লেখক আরিফ আজাদের এই সিরিজের একেকটি এপিসোড।
গল্পে গল্পে যুক্তি খন্ডন, পাল্টা যুক্তি ছুঁড়ে দেওয়া, পরম মমতায় অবিশ্বাসের অন্ধকার দূরীকরণে এ যেন এক বিশ্বস্ত শিল্পী।
একটা রিভিউ পড়া যাক-

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ‘এ মাস্ট রিড’ টাইপের বই। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, আস্তিক-নাস্তিক সবার জন্য অবশ্যই পাঠ্য।

বইটি অবিশ্বাসের কড়াকে ভেঙ্গে গড়েছেন বিশ্বাসের দৃঢ় সৌধ। অবিশ্বাসী মনকে করেছেন পাল্টা বিশ্বাসের প্রশ্ন। বাহাদুর সাজা কিছু মানুষদের অবিবেচক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সাবলীল ভাষায়।

বইটি দ্বিতীয়বার পড়েছি। বইটি পড়ার পর মন থেকে শুধু একটা কথায় উচ্চারিত হয়েছে, এমন একটি বই-ই আমি এতদিন খুঁজছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।

এমন এমন কঠিন প্রশ্নের এত সহজ উত্তর লেখক গল্পে গল্পে উপস্থাপন করেছেন তা বুঝার জন্য বড় কোন বিদ্বান ব্যক্তির দরকার পড়বে না, শুধু বুঝার জন্য একটা সরল মন হলেই হবে। আবার আপসোস হচ্ছে এই ভেবে যে, এর আগে যদি এসব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতো তাহলে এতদিন যারা নিজেদের বুদ্ধির জাহাজ বলে বড় বড় প্রশ্ন করে বসেছিলো, আর আমরা কম জানা লোকজন তাদের সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পরার যে লজ্জা এতদিন পেয়ে আসছি সে লজ্জা আর পেতে হতো না।

ইসলাম নিয়ে বিদ্বেষকারীদের সুন্দর একটা কূটকৌশল আছে। আর তাদের এই কৌশলের প্রধান অস্ত্র হলো ‘যুক্তি’। আপনাকে বা আমাকে তারা তাদের মুখস্থ করা কিছু যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করে বেকায়দায় ফেলবে। আর আমরাও যেহেতু ইসলাম নিয়ে, ধর্ম নিয়ে আমাদেরও খুব বেশি পড়াশুনা নেই তখন আমরাও সেসব যুক্তিতে একদম কাবু হয়ে যাই। মনে হবে এইতো বুঝি জ্ঞানের জাহাজে করে আসা মানুষের যুক্তি। আদৌতে সেসব যুক্তি দিয়ে প্রশ্নের ভিতরে কিছু গোঁজামিল আছে। আর দেখবেন তাদের সকলের প্রশ্নগুলো প্রায় একই ধরণের হয়ে থাকে। তারা ভালো করেই জানেন, এসব প্রশ্নের মাধ্যমেই একমাত্র আপনাকে আমাকে কাবু করা সম্ভব। আর সাধারণ পাবলিক হিসেবে আমারও সেসব প্রশ্নের উত্তর বা যুক্তির খণ্ডন তাৎক্ষনিক করা সম্ভব হয় না বিধায় তারাও তাৎক্ষনিক জয়ের কুটিল হাসি হাসতে পারেন।

বিষয়টা হলো তাৎক্ষনিক যুক্তি খণ্ডন করে উত্তর দিতে না পারলেও যে সত্য জিনিস মিথ্যা হয়ে যাবে এমনটা তো নয়।

ধরুন, আপনাকে হঠাৎ আমি প্রশ্ন করে বসলাম, আপনার মা-বাবা কে? আপনিও সহজ সরল বিশ্বাসে আপনার মা-বাবার দিকে আঙ্গুল তুলে বলবেন উনারাই হলেন আমার মা-বাবা। আমি যখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করবো, উনারা যে আপনার মা-বাবা তার কি কোন প্রমাণ আছে আপনার কাছে? এই প্রশ্ন যেমন আপনাকে হতচকিত করবে। এটা আপনার এতদিনকার বিশ্বাসের উপর কঠিন এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া। নিশ্চয় আপনি ওই মুহূর্তে আপনি কোন প্রমাণ দিতে পারছেন না বলে হয়তো একটু হলেও আপনার কষ্ট হবে। আবার এমন নয় যে, এই মামুলি প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনি এবং আপনার মা-বাবার ডিএনএ (DNA) টেস্ট করে প্রমাণ দিতে যাবেন! আসলে এটার প্রমাণ দেয়ারও দরকার পরছে না। সব কিছু প্রমাণ দেয়ার দরকার পরে না। কিছু জিনিস বিশ্বাসের উপর থাকতে হয়। আপনার মা-বাবার ক্ষেত্রেও বিশ্বাসটা সে রকম।

এখন আমাদের অবস্থাও এই রকম। আমরাও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আল্লাহ একজন আছেন। তিনি যুগে যুগে নবী-রসুল পাঠিয়েছেন তাঁর বার্তাবাহক হিসেবে। ইহকাল-পরকাল সম্পর্কে মানুষকে জ্ঞান দিয়েছেন। ঐশী গ্রন্থের মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাসকে পাকাপোক্ত করেছেন যে, হাশরের কঠিন হিসেবের পর ইহকালীন কৃতকর্মের উপর তারপর তারা পাবেন জান্নাত-জাহান্নাম।

কিন্তু উনাদের কথা একটাই আমরা প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করি না। কোন কিছু না দেখে বিশ্বাস করি না।
তো আপনারা যদি এখন না দেখে বা প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস নাই করেন তাহলে স্রষ্টা কি সবার কাছে এসে এসে দেখা দিয়ে কি আর বলবে এই বান্দা এই দেখো আমি, এবার আমাকে বিশ্বাস করো! এটা কি যৌক্তিক হবে? স্রষ্টা বরং পুরো ইহজগতে তার নিদর্শন দিয়ে রেখেছেন স্রষ্টাকে চিনার জন্য, বিশ্বাসের জন্য। সেসব দেখেই বরং আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে। আর এটাই বিশ্বাস।

আবার সবাই এক জায়গাই এসে একটা ভুল করে ধর্মকে সায়েন্সের সাথে গুলিয়ে ফেলে। ধর্মকে সায়েন্স দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চাই। ধর্মের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রমাণ দিতে হয় না। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রমাণ সাপেক্ষে বিশ্বাসের কথা আসে।
সায়েন্সও ভুল থিওরি দিতে পারে। সায়েন্স এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কথা হলো সায়েন্স পরিবর্তন হতে পারে। সায়েন্সে শেষ বা ফাইনাল বলে কোন কথা নেই। দেখা গেছে শত বছর ধরে যেটা সবাই সঠিক বলে যেনে-মেনে আসলো আরেক বিজ্ঞানী এসে আরেক থিওরি দিয়ে সেটা ভুল প্রমাণ করে সে আবার নতুন এক থিওরি দিলো। এবার আবার প্রমাণ সাপেক্ষে সবাই এই বিজ্ঞানীর থিওরি সঠিক হিসেবে মানা শুরু করবে। এটাও আরেক বিজ্ঞানী ভুল প্রমাণ করা পর্যন্ত টিকে থাকবে। আর এটাই হলো সায়েন্স। এটাই সায়েন্সের ধর্ম।

উদাহরণ হিসেবে, এই বইয়ের প্রথম অধ্যায় “একজন অবিশ্বাসীর বিশ্বাস” থেকে আমার মত করে একটা উদ্ধৃতি দিচ্ছি-

‘সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে’ এটা ছিলো টলেমী নামের এক বিজ্ঞানীর থিওরি। যা টিকে ছিলো প্রায় ২৫০ বছর। এরপর আরেক বিজ্ঞানী থিওরি দিলো যে সূর্য নয় ‘পৃথিবীই সূর্যের চারিদিকে ঘুরে’। এটাও ভুল ছিলো তারপরেও টিকে ছিলো প্রায় ৫০ বছর। কিন্তু আজকের বিজ্ঞান বলছে ‘শুধু পৃথিবী নয় সূর্যও তার কক্ষপথে অবিরাম ঘুরছে’। এখন চিন্তা করুন, যে থিওরি ২৫০ বছর এবং এর পরের থিওরি ৫০ বছর ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ছিলো সে সময়কার মানুষ যারা মারা গেছেন তারা এই বিশ্বাস নিয়েই মারা গেছেন যে, ‘সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে’ এবং পরবর্তীতে ‘পৃথিবীই সূর্যের চারিদিক ঘুরে’। এখন ঐশী গ্রন্থ কুরআনের কথায় দরুন, কুরআন সেই ২৫০ বছরের জন্য যে কথা বলেছে আবার পরবর্তী ৫০ বছরের জন্যই সেই একই কথা বলেছে এবং বর্তমানেও সেই হুবহু একই কথা বলে যাচ্ছে। তাই সব সময় বিজ্ঞান দিয়ে কুরআনকে জাস্টিফাই করা উচিত নয়।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে তাকদির বিষয়ের গল্পটা।

এক স্যার এমন প্রশ্ন করলেন, স্রষ্টা তো আগ থেকেই সব তথা তাকদির লিখে রেখেছেন। এবং মানুষ সে লিখে রাখা অনুযায়ী কাজ করছে। স্রষ্টা কাজ ভালো লিখে রাখলে মানুষ ভালো কাজ করছে বা খারাপ তাকদির লিখে রাখলে খারাপই করেছে। এতে মানুষের দোষ কি? স্রষ্টা যা লিখছে সেই অনুযায়ী তো সে করলো। তারপরেও তাকে কেন স্রষ্টার আগ থেকে লিখে রাখা অনুযায়ী কাজ করার জন্য জাহান্নামে যেতে হবে?

গল্পের নায়ক সাজিদ উত্তর দিলো, স্যার আপনি তো জানেন যে, এই ক্লাসের কে কে ফার্স্ট ক্লাস পাবে, কে সেকেন্ড ক্লাস আবার কে কে ফেল করবো। কারণ, আপনি আপনার স্টুডেন্টের অবস্থা ভালো করেই জানেন এবং কার কেমন মেধা সে অনুযায়ী কে কেমন রেজাল্ট করবে সেটা আপনি চোখ বন্ধকরেই লিখে দিতে পারেন। তো দেখা গেলো আপনার কাগজে লিখে রাখা অনুযায়ী সবাই রেজাল্ট করলো। যারা ফার্স্ট ক্লাস পাবার ফার্স্ট ক্লাস পেলো, সেকেন্ড ক্লাস পাবার তারা সেকেন্ড ক্লাসই পেলো এবং ফেল করার যারা তারা ফেল করলো। এখন যদি ফেল করা স্টুডেন্টরা যদি বলে যে, “স্যার আপনি কাগজে লিখে রেখেছেন বলেই আমরা ফেল করেছি!” তাহলে কি ব্যাপারটা সঠিক হবে বা আপনি মেনে নিবেন? নিশ্চয় এটা সঠিক হবে না। কারণ, শুধু আপনার কাগজে লিখে রাখার উপর তাদের কোন ফলাফল হয়নি।আপনি তো শুধু তাদের মেধা,যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা রাখেন বলেই অগ্রিম বলে দিতে পেরেছেন। আসলে তো তাদের ফলাফল তাদের কৃতকর্মের ফল তথা তাদের পড়াশুনা অনুযায়ীই হয়েছে। আপনার কাগজে লিখে রাখার জন্য হয়নি।

ভাগ্যটাও ঠিক এ রকম। সৃষ্টিকর্তা হলেন আলিমুল গায়েব। তিনি তাঁর বান্দার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সব জানেন। স্রষ্টা জানেন যে, আপনি আজ সকালে একজনকে খুন করবেন। তাই তিনি সেটা আগেই আপনার তাকদিরে লিখে রেখেছেন। এটার মানে এই নয় যে, স্রষ্টা লিখে রেখেছেন বলেই আপনি খুনটি করেছেন। বরং আপনি আজকে খুন করবেন বলেই সেটা স্রষ্টা লিখে রেখেছেন।

বইটি পড়ার পর আমি নিজের মত করে ব্যাখ্যা করা চেষ্টা করেছি। এসব কথা আমার নিজস্ব চিন্তাধারার এবং মস্তিষ্কপ্রসূত। আশা করি ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং বইটি পড়বেন।
ধন্যবাদ সবাইকে। এবং লেখাটি বড় হয়ে যাওয়ায় দু:খিত।

Wednesday, April 1, 2020

বেলা ফুরাবার আগে - আরিফ আজাদ (High Quality PDF)

বেলা ফুরাবার আগে - আরিফ আজাদ (High Quality PDF)

বেলা ফুরাবার আগে



লেখক : আরিফ আজাদ
প্রকাশনী : সমকালীন প্রকাশন
বিষয় : অন্ধকার থেকে আলোতে
পৃষ্ঠা: ১৯২
কভার: পেপারব্যাক
বেলা ফুরাবার আগে…
নিজেকে আবিষ্কারের একটি আয়না। যে ভুল আর ভ্রান্তির মোহে, অন্ধকারের যে অলিগলিতে আমাদের এতোদিনকার পদচারণা, তার বিপরীতে জীবনের নতুন অধ্যায়ে নিজের নাম লিখিয়ে নিতে একটি সহায়ক গ্রন্থ এই বই, ইন শা আল্লাহ।
বইটি কাদের জন্য?
এই বই তাদের জন্য যারা আমার কাছে ‘সাজিদ হতে চাই’ বলে বিভিন্ন সময়ে আবদার করেন। পরামর্শের আবদার, পথনির্দেশের আবদার। সাজিদ হতে হলে, আমি মনে করি, সবার আগে একটা অন্ধকার বৃত্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাজিদ যেভাবে অন্ধকারের কৃষ্ণগহ্বর ছেড়ে, আলোর ফোয়ারাতে তার জীবন রাঙিয়েছে, সেরকম ঝলমলে আলোর মাঝে নিজেকে মেলে ধরাই ‘সাজিদ’ হবার প্রথম এবং প্রধান শর্ত। কেবল ভারি ভারি বই আর যুক্তির পশরা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার মধ্যেই ‘সাজিদ’ হয়ে উঠার সার্থকতা নেই। সাজিদ হয়ে উঠার সার্থকতা তখনই যখন সাজিদ যে আদর্শের আলো প্রাণে প্রাণে ছড়িয়ে দিতে চায়, তা আমরা জীবনে মেখে নিতে পারবো।
বইটি কাদের জন্য?
ভুলোমনা একঝাঁক তারুণ্যের জন্য এই বই। যে ভুলের গহ্বরে তারা জীবনের বসন্তগুলোকে পার করছে, সেই ভুল থেকে তাদের ‘বেলা ফুরাবার আগে’ টেনে তুলতেই এই বইটার অবতারণা।
এর বাইরেও থাকছেঃ
‘চোখের রোগ’, ‘বলো, সুখ কোথা পাই’, ‘বেলা ফুরাবার আগে’, ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’, ‘যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা’, ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’, ‘বসন্ত এসে গেছে’, ‘তুলি দুই হাত করি মোনাজাত’, ‘চলো বদলাই’ নামের আঠারোটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে, ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়।

Downlode Link :