Tuesday, September 29, 2020

ই-পাসপোর্ট কি, ফি কত ও সুবিধা

ই-পাসপোর্ট কি, ফি কত ও সুবিধা

ই-পাসপোর্ট কি, ফি কত ও সুবিধা

 

জানুয়ারী ২২, ২০২০ থেকে ই-পাসপোর্ট (E-Passport) চালু হতে যাচ্ছে। বর্তমানের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) এর যুগ শেষে সামনের যে কোন সময় থেকে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পণ্ণ ই-পাসপোর্ট বা ডিজিটাল পাসপোর্ট পাবে বাংলাদেশের নাগরিকরা। এ পর্যন্ত ১২০টি দেশে ই-পাসপোর্ট চালু রয়েছে।

ই-পাসপোর্ট কি

ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি ইলেকট্রনিক চিপের মধ্যে পাসপোর্টধারীর পরিচয় সনাক্তকারী বিভিন্ন বায়মেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ই-পাসপোর্টে একজন ব্যক্তির বায়োমেট্রিক ও বায়োগ্রাফিক সর্বমোট ৪১টি তথ্য থাকবে। এই তথ্যগুলোর মধ্যে ২৬টি তথ্য খালি চোখে দেখা যাবে। এই পাসপোর্টে ২টি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে যেগুলো বিশেষ যন্ত্র ছাড়া বুঝা যাবে না ফলে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়বে।

ই-পাসপোর্ট কেমন হবে

ই-পাসপোর্ট বর্তমানের বই আকারে পাসপোর্ট যেমন আছে তেমনই। শুধু পাসপোর্টের পাতার শুরুতে ব্যক্তির তথ্য নিয়ে যে দুই পাতা আছে তা থাকবেনা। ব্যক্তির তথ্য পাসপোর্টেই পলিমারের তৈরি একটি চিপের মধ্যে সংরক্ষিত থাকবে।

ই-পাসপোর্ট সুবিধা, করার নিয়ম এবং ফি
                         ই-পাসপোর্ট

আর প্রযুক্তিগত ভাবে MRP পাসপোর্টের সাথে ই-পাসপোর্টের প্রার্থক্য আছে। এতে আছে শনাক্তকরণ চিহ্ন, স্মার্টকার্ড প্রযুক্তির মতো মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা। ই-পাসপোর্টের প্রতিটি পাতায় খুব সূক্ষ্ম ডিজাইনের জটিল সব জলছাপ থাকে। এই পাসপোর্টের মেয়াদ হবে বয়স ভেদে ৫ ও ১০ বছর। বর্তমানে ই-পাসপোর্টে কাগজপত্র সত্যায়নের ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি কোন আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম হয় তবে সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট পেতে জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) জমা দিতে হবে এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে সকল আবেদনকারীকে শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।

কিভাবে কাজ করবে ই-পাসপোর্ট

ই-পাসপোর্টের সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে ‘পাবলিক কি ডাইরেকটরি’তে (PKD)। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এই তথ্যভান্ডার পরিচালনা করে। ই-পাসপোর্ট স্ক্যান করলে ব্যক্তি পরিচয়সহ অন্যান্য তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হয়ে যায়। এই জন্যে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মুখোমুখি হতে হবে না। যাঁদের হাতে ই-পাসপোর্ট থাকবে, দেশের প্রতিটি বিমান ও স্থলবন্দরের স্বয়ংক্রিয় ই-গেট দিয়ে সীমান্ত পার হতে পারবে। তবে যাঁদের হাতে এমআরপি পাসপোর্ট থাকবে, তাঁদের ইমিগ্রেশনের কাজ বিদ্যমান পদ্ধতিতে চলমান থাকবে। ই-পাসপোর্টের বাহক কোনো দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদনকারীর তথ্যের সঙ্গে PKD তে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করে নেবে। ইন্টারপোলসহ বিশ্বের সব বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ PKD তথ্যভান্ডারে ঢুকে তথ্য যাচাই করতে পারে।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা

  • ই-পাসপোর্টের তথ্য চুরি বা নকল করা এবং তা কাজে লাগানো প্রায় অসম্ভব।
  • ই-পাসপোর্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়া অপেক্ষাকৃত অনেক সহজ।
  • সব তথ্য, স্বাক্ষর, ছবি, চোখের কর্নিয়া ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সুরক্ষিত থাকার কারণে তা জাল করা সম্ভব হয় না।
  • বর্ডার পার হওয়ার সময় যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হচ্ছে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে।
  • এয়ারপোর্ট বা বর্ডার পার হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরিচয় নির্ণয় হচ্ছে।
  • ইন্টারপোলসহ বিশ্বের সব বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সহজেই তথ্য যাচাই করতে পারবে।
  • দূতাবাসে ভিসার আবেদন করলে দূতাবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

ই-পাসপোর্ট করার উপায়

প্রচলিত MRP পাসপোর্ট করার যে উপায় সেইভাবেই এই নতুন পাসপোর্ট করা হবে। ঢাকা ও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে আগের মতই পাসপোর্ট করা যাবে। ই-পাসপোর্টের জন্যে অন্যান্য তথ্যের সাথে বায়োমেট্রিক অতিরিক্ত তথ্য গুলো নেওয়া হবে। বিস্তারিত পড়ুনঃ ই-পাসপোর্ট করার উপায়

ই-পাসপোর্ট ফি

পাসপোর্টে পৃষ্ঠা সংখ্যার উপর ভিত্তি করে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা এই দুই ধরণের ই-পাসপোর্ট থাকছে। উভয় ধরণের পাসপোর্টে ডেলিভারি সময় অনুযায়ী আরও তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। আর সে অনুয়ায়ী পাসপোর্টের ফি নির্ধারণেও রয়েছে ভিন্নতা।

৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে

পাসপোর্টের ফির ধরণ৫ বছর মেয়াদী পারপোর্টের ফি১০ বছর মেয়াদী পারপোর্টের ফি
সাধারণ ফি৪,০২৫ টাকা৫,৭৫০ টাকা
জরুরি ফি৬,৩৯৫ টাকা৮,০৫০ টাকা
অতিজরুরি ফি৮,৬২৫ টাকা১০,৩৫০ টাকা

৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে

পাসপোর্টের ফির ধরণ৫ বছর মেয়াদী পারপোর্টের ফি১০ বছর মেয়াদী পারপোর্টের ফি
সাধারণ ফি৬,৩২৫ টাকা৮,০৫০ টাকা
জরুরি ফি৮,৬২৫ টাকা১০,৩৫০ টাকা
অতিজরুরি ফি১২,০৭৫ টাকা১৩,৮০০ টাকা
  • সাধারণ ফি প্রদান সাপেক্ষ্যে পাসপোর্ট পেতে সময় লাগবে প্রায় ২১ দিন
  • জরুরি ফি প্রদান সাপেক্ষ্যে পাসপোর্ট পেতে সময় লাগবে প্রায় ৭ দিন
  • অতিজরুরি ফি প্রদান সাপেক্ষ্যে পাসপোর্ট পেতে সময় লাগবে প্রায় ১ দিন

আগের পাসপোর্টের কি হবে

ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখনের এমআরপি পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাবে না। তবে কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাঁকে এমআরপির বদলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। বর্তমানে এমআরপি ডেটাবেইসে যেসব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। আর ই-পাসপোর্ট চালু হবার পর নতুন পাসপোর্ট করতে চাইলে MRP এর বদলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। এমআরপি ডাটা বেইসে যেসব তথ্য আছে তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে।

অনলাইনে আবেদন করা যাবে?

আপনি চাইলে অনলাইনে সরাসরি পূরণ করতে পারবেন অথবা ফর্ম ডাউনলোড করে তা পূরণ করতে পারবেন। তবে ছবি, আঙ্গুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশের ছবির জন্যে নিজে স্বশরীরে হাজির হয়েই আপনার আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

ই-গেট না থাকলে কিভাবে ইমিগ্রেশন হবে?

বিমানবন্দর বা ইমিগ্রেশন পোর্ট সব জায়গাতেই ই-গেট থাকবে এবং পাশাপাশি প্রচলিত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাও থাকবে। তাই ই-গেট না থাকলেও প্রচলিত ইমিগ্রেশন পদ্ধতিতে সবাই যাতায়াত করতে পারবে। এছাড়া ই-পাসপোর্টে এমআরপি পাসপোর্টের মতো প্রথমে তথ্য সংবলিত দুইটি পাতা না থাকলেও সেখানে পাসপোর্ট বাহকের নাম, নম্বর, জন্মতারিখ ইত্যাদি তথ্য থাকবে। তাই ই-পাসপোর্ট দিয়েও প্রচলিত পদ্ধতিতে ইমিগ্রেশন পার হওয়া যাবে।

Wednesday, March 4, 2020

যে ২৫টি উক্তি পাল্টে দিতে পারে আপনার জীবন!

যে ২৫টি উক্তি পাল্টে দিতে পারে আপনার জীবন!


এপিজে আব্দুল কালাম তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন বিজ্ঞানী হিসেবে। পরে তিনি ঘটনাচক্রে রাজনীতিবিদে পরিণত হন। কালামের জন্ম অধুনা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বরমে। তিনি পদার্থবিদ্যা ও বিমান প্রযুক্তিবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর চল্লিশ বছর তিনি প্রধানত রক্ষা অনুসন্ধান ও বিকাশ সংগঠন (ডিআরডিও) ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (ইসরো) বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন।

ভারতের অসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি ও সামরিক সুসংহত নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে তিনি অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিলেন। ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মানব’ বা ‘মিশাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়।

২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জুলাই মেঘালয়ের শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে বসবাসযোগ্য পৃথিবী বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে বেথানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই ইন্তেকাল করেন গুণী এই ব্যক্তি।

আজ আমরা মাসিক আদর্শ নারীর পাঠকদের উদ্দেশে তার এমন ২৫টি উক্তি উল্লেখ করতে যাচ্ছি, যা মনে গেঁথে নিলে পাল্টে যেতে পারে জীবন।

১।  ‘স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন সেটাই, যেটা তোমায় (পূরণের অদম্য ইচ্ছা) ঘুমুতে দেয় না।’

২। ‘“যদি সূর্যের মতো উজ্জ্বল হতে চাও, তাহলে তোমাকেই প্রথমে সূর্যের মত পুড়তে হবে” ।’

৩। ‘যদি তুমি তোমার কাজকে স্যালুট কর, দেখো তোমায় আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না। কিন্তু তুমি যদি তোমার কাজকে অসম্মান কর, অমর্যাদা কর, ফাঁকি দাও, তাহলে তোমায় সবাইকে স্যালুট করতে হবে।’

৪। ‘যারা হৃদয় দিয়ে কাজ করতে পারে না, তাদের সাফল্য অর্জন আনন্দহীন ও আকর্ষণহীন, এমন সাফল্যের থেকেই সৃষ্টি হয় তিক্ততা’

৫।  “স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তোমাকে স্বপ্ন দেখে যেতে হবে”

৬। ‘নানারকমের চিন্তা ও উদ্ভাবনের সাহস থাকতে হবে।  আবিষ্কারের নেশা থাকতে হবে।  যেই পথে কেউ যায়নি, সেই পথেই এগোতে হবে।  অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহস থাকতে হবে এবং সমস্যাকে জয় করেই সফল হতে হবে’

৭। ‘প্রথম জয়ের পর কখনই বিশ্রাম নেওয়া উচিত নয়, তাহলে দ্বিতীয়বার যদি আমরা ব্যর্থ হই, তখন সবাই বলবে প্রথমটা তুমি ভাগ্যের জোরে পেয়েছিলে”

৮। ‘আকাশের দিকে তাকাও। আমরা একা নই। পুরো মহাবিশ্ব আমাদের প্রতি বন্ধুত্বসুলভ। যারা স্বপ্ন দেখে এবং কাজ করে, শুধুমাত্র তাদেরকেই
শ্রেষ্ঠটা দেওয়ার জন্য চক্রান্তে লিপ্ত এই বিশ্ব।’

৯। ‘জীবন আর সময় হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।  জীবন শেখায় সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে আর সময় শেখায় জীবনের মুল্য দিতে।’

১০। “যদি একটি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত এবং সুন্দর মনের জাতিতে রুপান্তরিত করতে হয়, তাহলে আমি বিশ্বাস করি এতে তিনজন মানুষের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা থাকে – বাবা, মা আর শিক্ষক”

১১। তুমি তোমার ভবিষ্যত পরিবর্তন করতে পারবে না, কিন্তু অভ্যাস পরিবর্তন করতে নিশ্চই পারবে, এবং অভ্যাসই তোমার ভবিষ্যত পরিবর্তন করে দেবে।

১২।  “একটা কথা পরিষ্কার, সৃষ্টিকর্তা তাদেরই সহায় থাকেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করেন”

১৩।  “জীবনে কঠিন সব বাঁধা আসে, তোমায় ধ্বংস করতে নয় বরং তোমার ভেতরের লুকোনো শক্তিকে অনুধাবন করাতে, জাগিয়ে তুলতে।  বাঁধাসমূহকে দেখাও না যে তুমিও কম কঠিন নও”

১৪।  “যে মানুষগুলো তোমাকে বলে, “তুমি পারো না” বা “তুমি পারবেই না”, তারাই সম্ভবত সেই লোক যারা ভয় পায় এটা ভেবে যে; তুমি পারবে”

১৫। “আমি সুদর্শন নই, কিন্তু আমি আমার হাত ওই মানুষটার জন্য বাড়িয়ে দিতে পারি, যার সত্যি সাহায্যের প্রয়োজন।  সৌন্দর্য থাকে মানুষের মনে, চেহারায় নয়”

১৬।  “যদি তুমি ব্যর্থ হও অর্থ্যাৎ FAIL করো, তাহলে মোটেই হাল ছেড়ে দিও না। কারণ FAIL শব্দটার একটা ভিন্ন অর্থ আছে- First Attempt in Learning অর্থাৎ শিক্ষার প্রথম ধাপ”

১৭। “সফলতার গল্পে কেবল একটা বার্তা থাকে কিন্তু ব্যর্থতার গল্পে সফল হওয়ার উপায় থাকে”

১৮। “বৃষ্টির সময় প্রত্যেক পাখিই কোথাও না কোথাও আশ্রয় খোঁজে, কিন্তু ঈগল মেঘের উপর দিয়ে উড়ে বৃষ্টিকে এড়িয়ে যায়। চেষ্টা কর, তুমিও পারবে। ”

১৯।  “মানুষের জীবনে প্রতিবন্ধকতা থাকা দরকার, বাঁধা না থাকলে সফলতা উপভোগ করা যায় না”

২০। “সহজ ও দ্রুত সুখের জন্য না ছুটে প্রকৃত সফলতার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও”

২১। “ব্যর্থতা নামক রোগের সবথেকে ভালো অসুধ হলো আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রম, এটা আপনাকে একজন সফল মানুষ করে তুলবে”

২২। “নির্দিষ্ট লক্ষ্য, ক্রমাগত জ্ঞান সঞ্চয় করা, কঠোর পরিশ্রম ও হার না মানা মনোভাব – এই চারটি জিনিস মেনে চললে যেকোনো কিছুকেই লাভ করা যেতে পারে”

২৩।  “ছোট লক্ষ্য রাখা একটি অপরাধ”

২৪। “ওপরে আকাশের দিকে তাকাও, আমরা একা নই”

২৫।  প্রতিদিন সকালে এই পাঁচটা লাইন বলো :
১) আমি সেরা।
২) আমি করতে পারি
৩) সৃষ্টিকর্তা সব সময় আমার সঙ্গে আছে
৪) আমি জয়ী
৫) আজ দিনটা আমার

Sunday, March 1, 2020

মমি বৃত্তান্ত যেভাবে বানানো হলো রহস্য ঘেরা মমি

“মমি” শব্দটা শুনলে তোমার কী মনে আসে? পিরামিডের ভেতর অন্ধকার ঘরে একটা বাক্স, তার ভেতর সারা শরীর ব্যান্ডেজের মত করে প্যাঁচানো একটা লাশ, সাথে একটা ভূতুড়ে অনুভূতি! তাই কি?  তোমাদের মধ্যে যারা এই লেখাটি পড়ছো, তারা মমি চেনো না এমন হওয়াটা প্রায় অসম্ভব। বিভিন্ন কার্টুন সিনেমার বদৌলতে ছোটবেলা থেকেই আমরা মমির সাথে পরিচিত। এমনকি ‘মিশর’ শব্দটি শুনলেও পিরামিডের সাথে সাথে মমির কথা মনে পড়ে যায়!

ছোটবেলায় মমি নিয়ে আমার ভীষণ আগ্রহ ছিল, কী করে এটা বানায়? কেমন করে একটা মৃতদেহ সহস্র বছর অক্ষত থাকে? পরে যখন সত্যিই জেনে ফেললাম, তখন ব্যাপারটা দারুণ ইন্টারেস্টিং মনে হল! তাই চলো জেনে নিই কী করে প্রাচীন মিশরীয়রা মৃতদেহ থেকে মমি বানাতো!

কী এই  মমি? কোথা  থেকেই  বা  এটা এলো?

তোমরা কম বেশি সবাই জানো হয়তো, মৃত্যুর পর আমাদের দেহের ভেতরের এনজাইমের কারণে মৃতদেহটি বাতাসের সংস্পর্শে এসে পচে যেতে  থাকে। কিন্তু মমি হল এমন একটি মৃতদেহ  যা কখনোই  পঁচে না বা প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস হয় না। কারণ বিভিন্ন কেমিক্যাল আর ঔষধ দিয়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে মৃতদেহটিকে পঁচন থেকে রক্ষা করা হয়।

‘মমি’ শব্দটি এসেছে ফ্রেঞ্চ শব্দ ‘মোমি’ (momie)  থেকে। কিন্তু শব্দটির মূল উৎস হল পারস্য শব্দ ‘মোম’ (wax) আর এই মোম থেকে এসেছে আরবি ও ল্যাটিন শব্দ “মুমিয়া”। মুমিয়া থেকে এখন এই শব্দটি হয়ে গিয়েছে “মমি”। অনেকের মতে মমি বানানো প্রথম শুরু করে মিশর। তবে ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায় মিশরীয়দের এক হাজার বছর আগেই উত্তর চিলি আর দক্ষিণ পেরুতে মমি বানানো হতো। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে তার কিছু ধ্বংসাবশেষও আছে।

বৃটিশ মিউজিয়াম এ সংরক্ষিত মমি

কেন ও কী করে মমি বানানো হতো ?

প্রাচীন মিশরীয়রা মনে করত মৃত্যুর পর, মানুষ পরকালে তাদের জীবন আবার শুরু করবে। আর সেই জীবনে যাওয়ার জন্য তাদের মৃতদেহ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। আর এই সংরক্ষণ করে রাখার জন্য মমি তৈরি করা হতো। তবে মমি কেবল  মিশরের ধনী ও উচ্চবর্গীয় ব্যক্তিদেরই করা হতো।

 কীভাবে সেই মমি বানানো হতো চলো এবার তা দেখে নিই!

১) মমি করার আগে প্রথমেই মৃতদেহটিকে নিয়ে যাওয়া হতো ‘ইবু’ (ibu) নামের একটি ঘরে। “ইবু” অর্থ হলো “বিশুদ্ধকরণ স্থান”। ইবুতে মৃতদেহটিকে ভালো মতো ধোয়া হত সুগন্ধযুক্ত “তাড়ি” নামের তালের রস থেকে তৈরি মদ দিয়ে। এরপর নীলনদের পানি দিয়ে ভালোমতো দেহটিকে পরিষ্কার করা হতো।

ইবুতে চলছে পরিষ্কারকরণ প্রক্রিয়া

২) এরপর ইবু থেকে দেহটিকে নিয়ে যাওয়া হতো “ পার- নেফার”(per-nefar) এ। এটাকে ‘মমিকরণ’ কক্ষ বললেও ভুল হবে না। কারণ এখানেই শুরু করা হত মমি তৈরির মূল কাজ।

৩) পার - নেফারে নেয়ার পর দেহটিকে একটি টেবিলের উপর রেখে প্রথমে মৃতদেহটির বাম দিক থেকে এর ভেতরের পচনশীল অঙ্গগুলো, যেমন : যকৃত, ফুসফুস, পাকস্থলী এবং অন্ত্র বের করে আনা হতো। কিন্তু হৃদপিণ্ডটিকে কিছুই করা হত না। কারণ তারা ভাবতো মানুষের সব আবেগ অনুভূতি ও শক্তির  মূল কেন্দ্র হল এই হৃদপিণ্ড।

 যাই হোক,বের করে নেওয়ার পর অঙ্গগুলোকে ভালো করে ধুয়ে ‘রজন’ নামের এক ধরনের গাছের আঠালো রসের প্রলেপ দিয়ে পাটের কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে এক ধরণের বিশেষ পাত্রে রাখা হতো। এ বিশেষ পাত্রগুলোকে বলা হয় “ক্যানোপিক জার “(canopic jar )। এই ক্যানোপিক জারগুলো আবার চার রকম, যেসবের আবার ভিন্ন ভিন্ন নামও আছে। নামগুলো হল- ইনসেটি, হাপি, ডুয়ামেটেফ, আর কেবেহসেনুয়েফ। এই চারটি জারে যথাক্রমে  যকৃত, ফুসফুস, পাকস্থলী  আর অন্ত্র রাখা হতো।

৪) পচনশীল অঙ্গগুলো বের করার পর এবার মগজটা বের করার পালা। একটা লম্বা মতন হুকের সাহায্যে নাকের ভেতর কায়দা করে  একটা লম্বা চামচ এর মত জিনিস দিয়ে পুরো মস্তিষ্কটা বের করে আনত। তবে এত কষ্ট করে বের করা মস্তিষ্ক কিন্তু তারা  সংরক্ষণ করত না! কারণ তারা ভাবতো মগজ আসলে অপ্রয়োজনে একটা জিনিস, তাই তারা এটা বের করে ফেলে দিত!

৫)এখন পুরো শরীরটিতে বাইরের অঙ্গগুলো ছাড়া বলতে গেলে আর কিছুই নেই। ভেতরের অঙ্গগুলো সরানোর পর যে জায়গাটি ফাঁকা হয়ে গেল, সে জায়গাটি এখন ভরে দেয়ার পালা। নয়তো মৃতদেহটিকে তো আর জীবিতদের মতো লাগবে না! তাই ফাঁকা স্থানটি ভালোমতো তাড়ি দিয়ে মুছে ফেলা হতো। এরপর ওই বাম দিকের কাটা অংশটা দিয়ে ধুপ ও অন্যান্য পদার্থ ভরে দেয়া হতো।

৬) এবার পুরো দেহটিকে ন্যাট্রন (natron ) পাউডারে মুড়ে দেয়া হতো। ন্যাট্রন হলো এক ধরণের লবণ। এই ন্যাট্রন এর কাজ হল চামড়ার রঙ খুব একটা  পরিবর্তন না করেই  মৃত দেহের সব জলীয় পদার্থ শোষণ করে ফেলা। আর এই শোষণ কাজটি করার জন্য ন্যাট্রনএর সময় লাগত ৩৫ থেকে ৪০ দিন।

৭) ৪০ দিন পর মমিটিকে নিয়ে আনা হতো ওয়াবেট নামক ঘরে। এই ঘরে শুকিয়ে যাওয়া মৃতদেহটি  থেকে বের করে আনা হবে সেইসব ভরে দেয়া  ধুপ  ও অন্যান্য পদার্থ। তাহলে এখন  ফাঁপা জায়গাটিতে কী থাকবে? এখন ওই ফাঁকা স্থান ভরে দেওয়া হবে ন্যাট্রন, রজনে সিক্ত পাটের কাপড় ও আরো কিছু পদার্থ দিয়ে। ফাঁকা জায়গা ভরাট করে আবার আগের মত হয়ে যাওয়া দেহটির কাটা স্থানগুলো এবার সেলাই হবে। এরপর দেওয়া হবে রজনের প্রলেপ। আর এর পরে শুরু হবে সবচেয়ে জটিল প্রক্রিয়া। ব্যান্ডেজ দিয়ে দেহটিকে মুড়িয়ে দেওয়ার কাজ।

8) লিনেনের পাতলা কাপড়ের ব্যান্ডেজ দিয়ে পুরো শরীরটিকে মুড়িয়ে দিতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লেগে যেত। ব্যান্ডেজ করার শুরু হতো মাথা ও গলা দিয়ে, এরপর থেকে একে একে হাত পা আর পুরো শরীরটাই মুড়িয়ে দেয়া হতো। আবার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে আলাদা করে ব্যান্ডেজ করে দেয়া হতো। এই ব্যান্ডেজটা কিন্তু কেবল এক স্তর করে দিয়েই শেষ হয়ে যেত না। কয়েক স্তর ব্যান্ডেজ করা হতো। আর প্রতি স্তরকে জোড়া লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হতো রজেন। আর ব্যান্ডেজ করার পুরো সময়টিতে পড়া হত মন্ত্র। ব্যান্ডেজ করা শেষ হলে মমির হাত-পা একসাথে বেঁধে হাতের মাঝে “ বুক অফ ডেড” থেকে নেওয়া প্যাপিরাসে লেখা মন্ত্র আটকানো থাকতো।

[tmsad_ad type="video"]

9)  এরপর মৃতের শরীরের বিভিন্ন অংশে লাগানো হত শক্ত খাঁচা। আর মাথায় পরিয়ে দেয়া হত মুখোশ। মুখোশটি বানানো হতো হয় মৃত ব্যক্তির সাথে মিল রেখে, নয়তো কোন মিশরীয় দেবতার মুখের মত করে; মিশরীয়দের মতে এই খাঁচার পোশাক মৃতের আত্মাকে সঠিক দেহ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

10) সবশেষে এখন খাঁচা সমেত মমিটিকে কফিনে ভরার পালা। কফিনে শুধু মমিটিকেই ভরা হত না, পরকালে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন খাবার আর মূল্যবান গহনা ভরে দেয়া হতো! আর এভাবেই শেষ হতো পুরো প্রক্রিয়া।

ছোটবেলায় “স্কুবি ডুবি ডু” নামের এক কার্টুন দেখে আমি প্রথম মমি চিনেছিলাম। তুমি কীভাবে চিনেছিলে? কমেন্ট করে জানিয়ে দিও! মমি নিয়ে কিন্তু মুভিও আছে,চাইলে দেখে নিতে পারো ‘’The Mummy” মুভিটি। আর যদি আগেই দেখে থাকো তাহলে চাইলে জানিয়ে দিতে পারো কিন্তু!

ছবি:

১. ancientegypt.co.uk

২. google.com

তথ্যসূত্র :

১.http://www.ancientegypt.co.uk/mummies/story/page2.html

২.https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A6%AE%E0%A6%BF